আড়াইশো ছবির নায়িকা ঝুমকা এখন কোথায়, কি করছে সে?

5549
আড়াইশো ছবির নায়িকা ঝুমকা এখন কোথায়?

দেড়যুগ আগে দাঁপিয়ে বেড়াতেন চলচ্চিত্র। রুপালী পর্দায় তার দেখা মিললেই দর্শকের মনে বইতো টাইফুন। বলছি ওই সময়ের আলোচিত-সমালোচিত চিনায়িকা ঝুমকার কথা।

চলচ্চিত্র যখন অশ্লীলতার ছোবলে জর্জরিত, নায়িকা ঝুমকার ক্যারিয়ার তখন একাদশে বৃহস্পতি। কয়েক বছরে তিনি ২৫০ এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেন। বিশেষ করে, শাহীন আলম ও মেহেদির সঙ্গে জুটি বেঁধে সর্বাধিক সিনেমায় কাজ করেছেন ঝুমকা। তবে শাহীন আলমের চেয়ে মেহেদির সঙ্গে ঝুমকার কদর ছিল দর্শকদের কাছে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে কোনো খোঁজ নেই চিত্রনায়িকার ঝুমকার। তিনি কোথায়, কেমন আছেন জানার চেষ্টা করেছেন এই প্রতিবেদক।

ঝুমকার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর (চলচ্চিত্র অভিনেতা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মাধ্যমে জানা যায়, ঝুমকা বাংলাদেশে সর্বশেষ ‘দাবাং’ ছবিতে অভিনয় করেন। ওই ছবি মুক্তির আগে ২০১৩ তিনি আমেরিকা চলে যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই রয়েছেন। সেখানে তার স্বামী দেলোয়ার সাঈদের সঙ্গে থাকেন। ঝুমকা ও সাঈদ দম্পতির রয়েছে একজন পুত্র সন্তান। ঝুমকার ওই বন্ধু জানান, সেখানেই স্বামী ও সন্তান নিয়ে স্থায়ী হয়েছেন ঝুমকা।

দেশে ফেরার ইচ্ছে নেই তার। ঝুমকার স্বামী সেখানে একটি ফুয়েল কোম্পানিতে চাকরি করেন। সন্তান লালন পালনের পাশাপাশি ঝুমকা পার্টটাইম একটি সুপার-শপে চাকরি করেন।

স্বামীকে নিয়ে ঝুমকা খুবই সুখে আছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঝুমকার ওই বন্ধু। বন্ধুটি আরো জানান, প্রায় ১০ বছর আগে ঝুমকার সঙ্গে দেলোয়ার সাঈদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির প্রথম জমজ সন্তান জন্ম নিলেও তখন মারা যায়। তখন স্বামীকে নিয়ে ঝুমকা থাকতেন রাজধানীর উত্তরায়। চলচ্চিত্রে অভিনয় কম করলেও স্টেজ শো করতেন ঝুমকা। দ্বিতীয় বিয়ের আগে চিত্রনায়ক মেহেদির সঙ্গেও গোপনে বিয়ে করেছিলেন ঝুমকা। কিন্তু তাদের ওই সংসার টেকেনি। তবে, অতীতের তিক্ততা ভুলে ঝুমকা এখন তার স্বামী, সন্তান ও সংসার এই তিন ‘স’ তে মনোযোগী।

এদিকে নোয়াখালীর মেয়ে ঝুমকার সাম্প্রতিক কিছু স্থিরচিত্র দেখা বোঝা গেছে, একসময়ের আবেদনময়ী এই নায়িকা এখন পরিণত গৃহিনী। আগের মতো চাকচিক্য নেই তার মধ্যে। বেশ মুটিয়েও গেছেন। ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ অশ্লীল ছবিতে অভিনয় করলেও ঝুমকা প্রথম কাজ করেন রাজীবের সঙ্গে ‘জননেতা’ ছবিতে। এরপর সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে ঝুমকা হয়ে উঠেছিলেন অশ্লীল সময়ের শীর্ষ নায়িকাদের একজন।

ঝুমকার ওই বন্ধু জানান, সে আর আগের ঝুমকা হয়ে বাঁচতে চায়না। দেশে থাকালে তাকে নিয়ে ছবি বানানোর জন্য পরিচালক, প্রযোজকরা যোগাযোগ করতেন। সেজন্য স্বপরিবারে আমেরিকা প্রবাসী হয়েছে ঝুমকা। ভবিষ্যতে একমাত্র পুত্রকে মানুষ করে গঠে তোলাই ঝুমকার মূল উদ্দেশ্য, পাশাপাশি নিজের সংসারকে তিনি আগলে রাখলে চান।