আইপিএলের এবারের আসরে কতটি ছক্কা হয়েছে, আপনি জানেন কি?

129
আইপিএলের এবারের আসরে মোট কতটি ছক্কা হয়েছে, জানেন

চেন্নাই সুপার কিংসের হাতে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা ওঠার মধ্যদিয়ে শেষ হয়ে গেল আইপিএলের ১১তম আসর। এই আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় এক নম্বরে রানার্সআপ হায়দ্রাবাদের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। আর বোলারদের তালিকায় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অ্যান্ড্রু টাই।

সদ্য সমাপ্ত এই আসরের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেছেন দিল্লির রিশব পান্ত (অপরাজিত ১২৮ রান)। সেরা বোলিং ফিগারে শীর্ষে জায়গা পেয়েছেন পাঞ্জাবের আঙ্কিত রাজপুত (৫/১৪)। ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড জিতেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আর মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার হয়েছেন কলকাতার সুনীল নারাইন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই তারকাই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ৩০০ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ১৫ উইকেট। কলকাতার ক্যারিবীয়ান আরেক তারকা আন্দ্রে রাসেল চারের চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন। তার ব্যাট থেকে ৩১টি ওভার বাউন্ডারি আসে, আর বাউন্ডারি আসে ১৭টি।

সর্বোচ্চ রানের তালিকায় এক নম্বরে থাকা কেন উইলিয়ামসন ১৭ ম্যাচ খেলে করেছেন ৭৩৫ রান। তার সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৮৪, ব্যাটিং গড় ৫২.৫০। আটবার হাফসেঞ্চুরি করেছেন হায়দ্রাবাদের এই দলপতি। তার ব্যাট থেকে এসেছে ৬৪টি চার আর ২৮টি ছক্কার মার। দুইয়ে থাকা দিল্লির রিশব পান্ত করেছেন ৬৮৪ রান, খেলেছেন ১৪টি ম্যাচ। তিনে থাকা পাঞ্জাবের লোকেশ রাহুল ১৪ ম্যাচে করেছেন ৬৫৯ রান।

এছাড়া, সেরা দশে থাকা বাকিরা হলেন যথাক্রমে চেন্নাইয়ের আম্বাতি রাইডু (৬০২), শেন ওয়াটসন (৫৫৫), রাজস্থানের জস বাটলার (৫৪৮), বেঙ্গালুরুর বিরাট কোহলি (৫৩০), মুম্বাইয়ের সূর‌্যকুমার যাদব (৫১২), কলকাতার দিনেশ কার্তিক (৪৯৮) এবং হায়দ্রাবাদের শিখর ধাওয়ান (৪৯৭)।

এদিকে, বোলারদের তালিকায় এক নম্বরে থাকা পাঞ্জাবের অ্যান্ড্রু টাই নিয়েছেন সর্বোচ্চ ২৪ উইকেট। ১৪ ম্যাচ খেলে ৫৬ ওভার বল করেছেন তিনি। ৪৪৮ রান খরচায় ১৮.৬৬ গড়ে, ৮ ইকোনমি রেটে এই উইকেটগুলো নেন তিনি। তিনবার নিয়েছেন চারটি করে উইকেট। দুইয়ে থাকা হায়দ্রাবাদের রশিদ খান ১৭ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ২১ উইকেট। আর তিনে থাকা হায়দ্রাবাদের সিদ্ধার্ত কাউল ১৭ ম্যাচ খেলে পেয়েছেন ২১ উইকেট।

এছাড়া, শীর্ষ দশে থাকা বাকিরা হলেন যথাক্রমে বেঙ্গালুরুর উমেস যাদব (১৪ ম্যাচে ২০ উইকেট), দিল্লির ট্রেন্ট বোল্ট (১৪ ম্যাচে ১৮ উইকেট), মুম্বাইয়ের হারদিক পান্ডিয়া (১৩ ম্যাচে ১৮ উইকেট), জাসপ্রিত বুমরাহ (১৪ ম্যাচে ১৭ উইকেট), কলকাতা সুনীল নারাইন (১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট), কুলদীপ যাদব (১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট) এবং চেন্নাইয়ের শারদুল ঠাকুর (১৩ ম্যাচে ১৬ উইকেট)।

এই আসরে ছক্কা হয়েছে ৮৭২টি, যেখানে দীর্ঘ ছক্কাটি হয়েছে ১১১মিটার। মোট ১৯ হাজার ৯০১ রান উঠেছে এই আইপিএলে। বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ১১ হাজার ৮৪০ রান। ঘণ্টায় ১৫২.৩৯ কিলোমিটার গতির বল রেকর্ড হয়েছে এই আইপিএলে। আসরে ৪ হাজার ৭৫৪টি বল ডট হয়েছে। কোনো বোলার হ্যাটট্রিকের স্বাদ নিতে পারেননি। মোট উইকেটের পতন হয় ৭২০টি। ব্যাটসম্যানদের তালিকায় বেস্ট স্ট্রাইকরেট রাজস্থানের কৃষনাপা গৌতমের (১৫ ম্যাচে ১২৬ রান, স্ট্রাইকরেট ১৯৬.৮৭)। সুপার ওভারে যায়নি কোনো ম্যাচ। শেষ বলে নিষ্পত্তি হয়েছে দুটি ম্যাচের।

আসরের সর্বোচ্চ জয়টি পায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। মুম্বাই ৬ উইকেটে ২১০ রান করলে কলকাতা ১০৮ রানে গুটিয়ে যায়। মুম্বাই জেতে ১০২ রানের বিশাল ব্যবধানে। আর উইকেটের দিক দিয়ে সর্বোচ্চ জয়টি পায় বেঙ্গালুরু। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব মাত্র ৮৮ রানে গুটিয়ে গেলে বেঙ্গালুরু কোনো উইকেট না হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে। তাতে বেঙ্গালুরু ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জেতে।