“পবিত্র রমজানে মসজিদে নববীতে কেন লক্ষ লক্ষ মুসল্লির ঢল?”

183
পবিত্র রমজানে মসজিদে নববীতে কেন লক্ষ লক্ষ মুসল্লির ঢল?

মদিনার পবিত্র মসজিদে নববী মুসলিম উম্মাহর কাছে পরম শ্রদ্ধার মসজিদ। কারণ, এ মসজিদের ভিতরেই শায়িত আছেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত তাকে দরুদ ও সালাম পেশ করতে ছুটে যান লাখ লাখ মুসলিম। তাই সবসময় এখানে মানুষের ভীড় লেগেই থাকে।

পবিত্র রমজান এলে তা বেড়ে যায় কয়েকগুন।

রমজানের সম্প্রীতির অমোঘ এক আকর্ষণে দলে দলে মানুষ ছুটে যান মসজিদে নববীতে। সেখানে তারা ইবাদত বন্দেগিতে সময় কাটান। ইফতার করেন বিভিন্ন রকম খাদ্য ও কোমল পানীয় দিয়ে। ইফতারে দেয়া হয় খেজুর, ফলের রস, পানি, দুধ, বিভিন্ন রকম ফল, মাংস, ভাত। অতিথিদের যাতে কোনোকিছুতে ঘাটতি না হয় সেজন্য নেয়া হয় ব্যবস্থা। অন্যদিকে ইফতারের ডিশ সাজাতে স্বেচ্ছায় হাত লাগান অনেক মানুষ। তাদের উদ্দেশ্য শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাগরিবের আজানের আগেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশাপাশি বসে যান সব বয়স, শ্রেণী ও গোত্রের মানুষ। সেখানেও সাদা-কালো, ধনী-দরিদ্রের কোনো ভেদাভেদ থাকে না। আজান হওয়ার আগেই যার যার সামনে পৌঁছে যায় ইফতার। আজান হলেই সবাই ইফতার শুরু করেন। এ সময় এক আনন্দঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়।

এত্ত মানুষের ইফতার সরবরাহ ও নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করে দিতে ব্যবস্থা নিয়েছে আল মসজিদে নববী বিষয়ক মহাপরিচালক বা ডিরেক্টরেট।

সৌদি প্রেস এজেন্সি বলছে, রমজান মাসে পর্যটকদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সে জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ জন্য নামাজের সময়গুলোতে মুসল্লিদের নামাজের স্থান সংকুলান করে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে ডিরেক্টরেট। এ ছাড়া সেখানে ইফতারের সময় ভিতরে ও বাইরে সবাই যাতে ইফতার পান তা নজরদারি করা হচ্ছে। পানি সরবরাহও বাড়ানো হয়েছে। শান্তিতে এবং শ্রদ্ধাপূর্ণ পরিবেশে যাতে প্রার্থনাকারীরা প্রার্থনা করতে পারেন এ জন্য সার্বক্ষণিক পরিষ্কার করা হচ্ছে। কাজ করছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা।