Home Blog

কন্যা সন্তান নিয়ে বাড়িতে ফিরলেন সেই ইউএনও

0
কন্যা সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরলেন সেই ইউএনও

কন্যা সন্তান নিয়েই বাড়ি ফিরলেন সেই ইউএনওঃ সব উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ইউএনও হোসনে আরা বীণা বাসায় ফিরেছেন তার কন্যাসন্তানকে নিয়ে। শুক্রবার দুপুরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল থেকে এক মাস দশ দিন পর বাসায় ফেরেন তিনি।

নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে দোয়া কামনা করেন কন্যা ইয়োনার জন্য। দীর্ঘ নয় বছর পর প্রথমবারের মতো মা হন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এই নির্বাহী কর্মকর্তা।

শুক্রবার কন্যা ইয়োনাকে নিয়ে বাসায় ফিরে নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বীণা- ‘মহান আল্লাহর অপার রহমতে দীর্ঘ এক মাস দশ দিন পর আমার ইয়োনা মামণি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছে। সবাই আমার মামণির দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।’

গত ৪ ফেব্রুয়ারি ওএসডি করা হলে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন সন্তানসম্ভবা হোসনে আরা বীণা। পরে একটি প্রিম্যাচিউরড কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। জন্মের পর থেকে তার সন্তানটি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল।

এদিকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন- একজন নারী হিসেবে নয় বছরের দাম্পত্য জীবনে বহু চিকিৎসার পরও যখন সন্তান লাভ করতে পারিনি, তখন বিগত পাঁচ মাস আগে জানতে পারি আমি দুই মাসের সন্তানসম্ভবা।

আর এ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচনের কাজ অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করি। এর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বাহবাও পেয়েছি। একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে যখন এগিয়ে যাচ্ছিলাম, তখনই এক বিশেষ কর্মকর্তা বিভিন্ন মহলে পাঁয়তারা করছিলেন বদলি করার জন্য।

এরই মধ্যে ২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ডাক্তারি পরীক্ষার সময় একজন ব্যাচমেটের মাধ্যমে জানতে পারি, আমাকে ওএসডি অর্থাৎ বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। আমার অপরাধ হলো আমি সন্তানসম্ভবা।

এ খবর শুনে প্রচণ্ড মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আমার ফুসফুসে ব্লাড সার্কুলেশন অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। ফলে পেটের সন্তানের অপিজেন সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায়। এতে গর্ভের শিশু নড়াচড়া বন্ধ করে দিলে ডাক্তার ও পরিবারের সিদ্ধান্তে দুই মাস আগেই প্রিম্যাচিউরড শিশুকে সিজার করে বের করতে হয়। আর এখন সেই শিশু ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালের এনআইসিউতে বেঁচে থাকার জন্য প্রাণপন যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

তিনি স্ট্যাটাসে আরও লেখেন- ‘আমার অপরাধ হলো আমি সন্তানসম্ভবা, আর তার চেয়েও বড় কারণ হলো সেই তথাকথিত ক্ষমতাধর কর্মকর্তার উপরের মহল কর্তৃক তদবির।’

তিনি তার স্ট্যাটাসে বিশেষ কর্মকর্তার পরিচয় উল্লেখ করেননি।

ইউএনও হোসনে আরা বীণার স্ট্যাটাস নিয়ে ওই সময় সমকালসহ আরও দুটি দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেদিন প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়, ওইদিনই জাতীয় সংসদে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি তার ওএসডির আদেশ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিকে বৃত্তি পেল সাড়ে ৮২ হাজার শিক্ষার্থী

প্রাথমিক সমাপনীর বৃত্তির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার ও সাধারণ কোটায় ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

রোববার (২৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মো. জাকির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম আল হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মনজুর কাদিরসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

লিখিত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ২২৫ টাকা করে দেয়া হবে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিন বছর এ টাকা দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার মোট সাত হাজার ৯৮৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিটিতে ছয়জন করে (তিন ছাত্র ও তিন ছাত্রী) মোট ৪৭ হাজার ৯২৮টি সাধারণ বৃত্তি দেয়া হয়েছে। আর অবশিষ্ট ১৫৭২টি বৃত্তি থেকে প্রতি উপজেলায় আরও তিনটি করে (এক ছাত্র ও এক ছাত্রী এবং উপজেলার মেধার ভিত্তিতে এক জন) মোট ৫১০টি উপজেলায় ১৫৩০টি সাধারণ বৃত্তি দেয়া হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, এখন সব শিক্ষার্থী বৃত্তির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে। আগে কিছু মেধাবী শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেত। ফলে অনেকেই বঞ্চিত হত। এখন সুযোগ বেড়েছে।

তিনি জানান, ঝরে পড়া বন্ধ, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়ানো ও মেধা বিকাশের লক্ষ্যে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে (www.dpe.gov.bd) পাওয়া যাবে।

বলিউডের বিখ্যাত নায়িকাদের মত নাকি দেখতে কক্সবাজারের রাফিয়া, পুরা বিপদে পরিবার

0
বলিউডের বিখ্যাত নায়িকাদের মত দেখতে কক্সবাজারের রাফিয়া, বিপদে পরিবার

বলিউডের বিখ্যাত নায়িকাদের মত নাকি দেখতে কক্সবাজারের রাফিয়া, পুরা বিপদে পরিবার- কক্সবাজারের ঝিলংঝা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ঝিরঝিরিপাড়ার দিনমজুর আবদুল করিমের মেয়ে রাফিয়া (১০)। পরিবারের অভাবের কারণে মাত্র ১০ বছর বয়সেই সংসারের ভার কাঁধে তুলে নিয়েছে শিশুটি।

স্কুলে যাওয়ার পাশাপাশি সে সৈকতের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঝিনুক বিক্রি করে। আর সেই আয় দিয়ে চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু রাফিয়ার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেসবুক!

কিছুদিন যাবত ফেসবুকে ভাইরাল হয় রাফিয়ার মায়াবি হাসির ছবি। কেউ একজন রাফিয়ার সেই ছবি ফেসবুকে দেয়ায় সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী রাফিয়াকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে হলিউড-বলিউডের বিখ্যাত সুন্দরী নায়িকাদের।

ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এসব নায়িকাদের সঙ্গে রাফিয়ার ছবি দিয়ে ফেসবুকে লিখছেন, কে বেশি সুন্দর? কক্সবাজারের ঝিনুক বিক্রেতা রাফিয়া না ইন্ডিয়ার ক্যাটরিনা? অথবা কার হাসি বেশি সুন্দর ইত্যাদি।

এতেই বন্ধ হয়ে গেছে রাফিয়ার স্কুলে যাওয়া। এখন সে ঘরবন্দি।

রাফিয়ারা দুই ভাই, দুই বোন। তাদের মধ্যে রাফিয়া মেজো। বড় ভাই আবদুল্লাহ্ নবম শ্রেণিতে পড়ে। রাফিয়া কলাতলির সৈকত প্রাইমারি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তবে আপাতত তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে।

জানা যায়, কোনো এক পর্যটক রাফিয়ার ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে দিলে সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এ কারণে রাফিয়া এখন স্কুলে যেতে পারে না। ঝিনুক নিয়ে যেতে পারে না সৈকতে। রাফিয়াকে সবাই চিনে ফেলায় তার সঙ্গে সেলফিতে মেতে ওঠে।

এতে অপহরণ অথবা অজানা কোনো এক ভয়ে দিন পার করছে রাফিয়ার পরিবার। তাই তাকে আপতত ঘরবন্দি থাকতে হচ্ছে।

রাফিয়ার মা রহিমা বেগম জানান, রাফিয়ার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বেকার ও অসুস্থ থাকায় রাফিয়া প্রতিদিন সৈকতে ঝিনুক বিক্রি করে যা আয় করত তা দিয়ে চলত তাদের সংসার।

তবে অবুঝ মেয়ে রাফিয়া এসব কিছু মানতে রাজি নয়। সে তার বাবার চিকিৎসা ও সংসার চালাতে আবারও ঝিনুক হাতে ফিরতে চায় সৈকতে। যেতে চায় স্কুলে।

রাফিয়া জানায়, সে প্রতিদিন ঝিনুক বিক্রি করে ৪০০ থেকে ৫০০টাকা আয় করত, অভাবের সংসারের কথা মাথায় রেখে কখনও একটা টাকাও নিজে খরচ করত না। সব টাকাই মায়ের হাতে তুলে দিত। এ টাকা দিয়ে তার স্কুলের খরচ ও সংসারের খরচ চলত।

রাফিয়া বলে, ফেসবুক কি আমি বুঝি না, চিনিও না। তবে সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমাকে আর আমার পরিবারকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করুন। আমি পড়তে চাই। বাবার চিকিৎসা করাতে চাই, সংসার চালাতে চাই। আর এসব করতে গেলে আমাকে আগের মত ঝিনুক বিক্রি করতে সাগরে যেতে হবে। আমি সবার সহযোগিতা চাই।

এ ব্যাপারে রাফিয়ার বাবা আবদুল্লাহ বলেন, রাফিয়ার আর সৈকতে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি এগিয়ে এসে তার পড়াশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করে তবে আমি তাকে স্কুলে পড়তে দেব।

থানার মধ্যেই বিয়ে হল সুমন-মাহির

বগুড়ার শেরপুর থানায় এক প্রেমিক যুগলের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশের মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের সম্মতিতে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। শনিবার দুপুরে পৌরসভার কাজী ডেকে থানার সার্ভিস ডেলিভারী সেন্টার কক্ষে রেজিস্ট্রি ও বিয়ে পড়ানো হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়।

শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) বুলবুল ইসলাম জানান, শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া

পশ্চিমপাড়া গ্রামের ফজর আলীর ছেলে সুমন সেখের (২৩) সঙ্গে গাজীপুর জেলার মণিপুর এলাকার মতিন সেখের মেয়ে মাহি সেখের (২১) মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় ঘটে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

দীর্ঘ দুই বছর ধরে যোগাযোগ অব্যাহত থাকার সূত্রধরে গত শুক্রবার মাহি সেখ তার এক ফুফাতো বোনকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে শেরপুর উপজেলার বাগড়া গ্রামে সুমন সেখের বাড়িতে চলে আসে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান জানান, স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি জানতে পেরে থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে ওই প্রেমিক যুগলকে উদ্ধার করে থানায় আনে। একপর্যায়ে উভয় পরিবার বিয়েতে রাজি হন।

পরে কাজী ডেকে জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে তিন লাখ টাকা দেমনোহর ধার্য করে থানায় তাদের বিয়ে দেয়া হয় বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান।